
রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় এবার প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো চালের ধানের চাষ শুরু হয়েছে। সাধারণ সোনালি ধানের তুলনায় এই বিশেষ জাতের ধানের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক সোহান এবং আবু তালেব বিভিন্ন পরিমাণ জমিতে এই ধানের আবাদ করেছেন, এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরিগত সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করছে। আবু তালেব জানিয়েছেন যে, তিনি এই নতুন ফসলের চাষ করে লাভবান হতে চান এবং আশপাশের কৃষকরাও এতে আগ্রহী হতে পারেন।
প্রতি বিঘায় উৎপাদন ১৬ থেকে ১৮ মণ হতে পারে এবং বাজারে প্রতি মণ দামের সম্ভাব্য মূল্য ৪ হাজার টাকা। এর ফলে বিঘা প্রতি আয় প্রায় ৬৪ থেকে ৭২ হাজার টাকা হতে পারে, তবে প্রকৃত মুনাফা উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাক রাইসে উপস্থিত ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে এর চাহিদা বাড়ছে। যদিও এর বাণিজ্যিক সফলতা সঠিক বাজারজাতকরণের ওপর নির্ভর করে।
দুর্গাপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইসের চাষ চালু হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ ও মুমিনুজ্জামানের নেতৃত্বে ধানের ক্ষেত পরিচর্যা করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, ব্ল্যাক রাইসের চাষ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনবে এবং এটি কৃষকদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং ফলন, খরচ ও বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে আবাদের পরিধি দেখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলে বর্ষার পানিতে আউশ ও আমন ধানের চাষ প্রচলিত ছিল, কিন্তু আধুনিক সেচব্যবস্থার ফলে বোরো ধান চাষের ব্যাপক ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। ব্ল্যাক রাইসের সফলতা স্থানীয় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং এটি গবেষণায় উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বোরো ধানের সাথে যুক্ত রয়েছে।
সুত্রঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস):