
নওগাঁ জেলা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: প্রতিবন্ধী নাহিদ হোসেন কালো সৈনিক পোকা চাষে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রথমবারের মতো, রাণীনগর উপজেলার লোহাচূড়া গ্রামে তিনি এ পোকা চাষে সফলতা অর্জন করেন, যা পরিবেশবান্ধব এবং বিষমুক্ত মাছের খাদ্য সৃজন করে।
পিকেএসএফ এর স্মার্ট প্রকল্পের সহায়তায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘মৌসুমী’ নাহিদকে খামার স্থাপনে সহযোগিতা করেছে, যার ফলে তিনি নিজের পুকুরে এ পোকা চাষ করে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
নাহিদ প্রতি মাসে অতিরিক্ত উৎপাদিত পোকা বিক্রি করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন। কালো সৈনিক পোকা বাসাবাড়ি ও বাজারের পচনশীল আবর্জনা থেকে উৎপাদিত হয়, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে এবং কম্পোস্টিংয়ে ব্যবহার করা যায়। এ পোকা মাছ চাষে খাবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হলে খরচ কমে যায় এবং মৎস্য চাষিরা লাভবান হন।
কালো সৈনিক পোকাগুলোকে একটি ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হয়। তারা প্রজনন শেষে কাঠের স্তরের মধ্যে ডিম পাড়ে, যা মাত্র ১৫-১৬ দিনে লার্ভা উৎপাদন করে। বিশেষ খাবার ছাড়াই এসব পোকা উৎপাদিত হয়, যা পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উদ্যোক্তা নাহিদ হোসেন জানান যে, তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘মৌসুমী’ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। এই ঋণের মাধ্যমে স্মার্ট পিসিকালচার উপ প্রকল্পের সহযোগিতায় কালো সৈনিক পোকার (ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই) ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিকেএসএফ-এর স্মার্ট প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান পেয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তার খামারে দুইজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে।
নাহিদ জানান, প্রতি কেজি কালো সৈনিক পোকা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৬৫ টাকা এবং বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়। তার খামার থেকে প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি কালো সৈনিক পোকা উৎপাদন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তার উদ্যোগের ফলে এলাকায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং ছোট ও মাঝারি আকারের খামার গড়ে উঠছে। এই পোকা চাষ পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করছে এবং এটি প্রোটিনের বিকল্প উৎস হতে পারে। এর ফলে নাহিদ ‘ব্লাক সোলজার নাহিদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
রাণীনগর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কালো সৈনিক পোকা এখন পৃথিবীজুড়ে মাছ চাষে বিকল্প প্রোটিনের উৎস হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে। নাহিদ হোসেনের প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগের ফলে তার পুকুরের মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খাদ্য ব্যয় কমেছে।
প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয়ের মাধ্যমে এটি অন্য চাষিদের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছে। শুকনো অবস্থায় কালো সৈনিক পোকার লার্ভা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ প্রোটিন প্রদান করে, যা প্রাণিজ প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর এ ধরনের উদ্যোগকে সব সময় উৎসাহিত করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে।