
দিনাজপুর, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): নভেম্বরের আমন ধানের পোকা দমনে ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতার সাথে পোকা দমন করছেন।
পার্চিং পদ্ধতি হচ্ছে ধানের জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে দেওয়া, যা পাখিদের জন্য বসার স্থান তৈরি করে। পাখি ওই ডালে বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কমিয়ে আনে। এটি সম্পূর্ণ ব্যয়বিহীন, পরিবেশ বান্ধব এবং কীটনাশক মুক্ত, ফলে ফসলের উৎপাদন খরচও কমায় এবং নিরাপদ ফসল পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
সদর উপজেলা কৃষি দপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, এ বছর ১০ টি ইউনিয়নে আমন ধানের জন্য ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সদরুল আলম বলেন, ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কৃষি উৎপাদনের প্রধান অন্তরায়। ধরনভেদে ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো এবং মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। কৃষকরা পার্চিং পদ্ধতি ও ডেড ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন, তবে পার্চিং পদ্ধতি এই ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও কৃষি বান্ধব হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে, যেমন নশিপুর, কর্নাই, উত্তর সাদিপুর এবং গবিন্দপুর, কৃষকেরা বাঁশের খুঁটি ও গাছের ডাল পুঁতে রেখেছেন। এই খুঁটিগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে পোকা খাচ্ছে, যা ধান ক্ষেতের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) বাসসকে জানান যে, তিনি ও তার সহযোগীরা পার্চিং পদ্ধতির মাধ্যমে ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড়, যেমন ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকা থেকে ফসল রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। দাড়াইল গ্রামের ৭২ বছর বয়সী কৃষক মো. আমিন উদ্দিন বলেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষেতের মধ্যে পুঁতে রাখা ডালে পাখির উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, যা পোকাগুলোকে খেয়ে ফেলছে।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, সদর এবং পাশ্ববর্তী উপজেলার কৃষকরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে বেশি লাভবান হচ্ছেন। দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, এই পদ্ধতি বালাই-নাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করছে এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, গত দুই বছর ধরে কৃষকদেরকে এই পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এবছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ হেক্টর, যার মধ্যে উপশী জাতের ধান ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত ১ হাজার ৯৯০ হেক্টর, এবং হাইব্রিড ১২ হাজার ২৪০ হেক্টরে চাষযোগ্য।
এমনকি এবারের আমন মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সময়ে বৃষ্টির পানি এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতার কারণে কৃষকেরা অতিরিক্ত ১ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমি আমন ধান চাষে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণে এবারের ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।