
গম (Triticum spp.) বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময়ী শস্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে ধানের চাষের অলাভজনকতা এবং পানির কম চাহিদার কারণে। তবে, গমের ব্লাস্ট রোগ একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে, যা ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে প্রথম দেখা যায় এবং বাংলাদেশে এর বিস্তার ঘটেছে। এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং গমের উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। ব্লাস্ট রোগের জীবাণুর নাম Magnaporthe oryzae বা Pyricularia oryzae, যার শাসন ব্যবস্থায় বিবিধ বিতর্ক রয়েছে। এর জীবাণুর নামকরনের সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য ইংগিত করে যে, গম এবং ধানের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু আলাদা।
গবেষকদের মতে, ধানের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু গমের উপর অবস্থান করতে পারে, কিন্তু মহামারী আকারে গমের উপর রোগ তৈরি করতে পারে না। এই সন্দেহ থাকলেও, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে উভয় জাতির জীবাণুর মধ্যে সংক্রমণ ঘটে না। অস্তিত্বের প্রেক্ষাপটে, কৃষিবিজ্ঞানী ড. ক্রুজ এবং জাপানী বিজ্ঞানী ড. হায়াসি সহ অন্যান্য গবেষকরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই বিবিধ বিতর্কের নিরসনে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। গবেষকরা ব্লাস্ট রোগের উপর নজর দিতে উৎসাহিত করছেন, এবং বাংলাদেশের গমের ব্লাস্ট রোগের জীবাণুর উত্স নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
অবশেষে এটি পরিষ্কার যে, বাংলাদেশের গমের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু ধান থেকে আসেনি, বরং এর যৌন ও অযৌন জীবনচক্রের বৈশিষ্ট্য এবং রোগের সৃষ্টির সম্ভাবনা ভিন্ন। এটি বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ধানের এবং গমের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু আলাদা এবং একে অপরের উপর মহামারী আকারে আক্রান্ত করতে পারে না।
এটি একটি গবেষণা প্রস্তাবনা যা বাংলাদেশে ধানের ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য একটি সুসংহত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছে। এই রোগ মোকাবেলায় জাপানের উদাহরণ নিয়ে বাংলাদেশে উন্নত গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন এবং জীবাণুনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। ব্লাস্ট রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জীবাণুনাশক, যেমন ট্রায়সাইক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি, রোগ প্রতিরোধী জাত উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি।
গবেষণায় প্রথমত গমের ব্লাস্ট রোগের জন্য একটি ডিফারেনসিয়াল সিস্টেম তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় ১০০টি ভিন্ন ধরনের জীবাণু সংগ্রহ করে রোগ মোকাবেলার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। গবেষণার মাধ্যমে নির্বাচিত জীবাণু এবং জাতগুলোকে নির্দিষ্ট করে একটি সিস্টেম তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধী জাত উৎপাদনে সাহায্য করবে। এ প্রক্রিয়ায় ডিফারেনসিয়াল আইসুলেট এবং ডিফারেনসিয়াল ভ্যারাইটি ব্যবহৃত হবে, যা একটি সঞ্চালিত সূচক হিসাবে কাজ করবে।
ডিফারেনসিয়াল সিস্টেমের সুবিধা হলো যে এটি রোগের নতুন রেসের আবির্ভাব সনাক্ত করতে সক্ষম হবে। গবেষণায় যে জাত তৈরি হবে, সেটির প্রতি কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। উপরন্তু, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পদ্ধতি হিসেবে গবেষণার ফলাফলগুলি স্থানীয় কৃষকদের লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।
সর্বশেষে, বিএডিসি ও বিএআরসি নেতৃত্বে একটি গবেষণা টিম গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হতে পারে। ব্রি ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই অভিযান সফল হতে পারে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
