
জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা জেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় হলুদ জাতের মাল্টা ও কমলা চাষের মাধ্যমে একটি নতুন কৃষি বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। এই অঞ্চলের ভোক্তাদের মধ্যে এই ফলের স্বাদ ও গন্ধের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
ফলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত জীবননগর, দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে, অনেকে এখানে এসে ফলের চারা সংগ্রহ করেন এবং অন্যত্র চাষ করেন। বিভিন্ন ফল, যেমন পেয়ারা, আঙুর, ড্রাগন, আনার, এবং রকমেলন চাষ করে অনেক বেকার তরুণ এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জীবননগর উপজেলায় এ বছর ৩৩০ হেক্টর জমিতে মাল্টা ও কমলার আবাদ হয়েছে। সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় এবং বিশ্বের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ উৎপাদন এই ফলের। বাংলাদেশে মাল্টার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকেরা এতে সফল হচ্ছেন, বিশেষ করে আন্দুলবাড়ীয়া, কেডিকে, বাঁকা, উথলী ও রায়পুর ইউনিয়নে। এই এলাকায় উৎপাদিত মাল্টা মিষ্টি ও সুস্বাদু হিসেবে পরিচিত।
মানিকপুর গ্রামের উদ্যোক্তা সজলের হলুদ মাল্টা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন দল বেঁধে অসংখ্য দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এই বাগানে। হলুদ মাল্টা চাষে সজলের এই সাফল্য তাদেরও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
বিসমিল্লাহ নার্সারী ও ফলের বাগানের ম্যানেজার শৈশব আহমেদ জানিয়েছেন, এখানে ১,৩০০ প্রজাতির ফলের গাছ রয়েছে এবং প্রকল্প হিসাবে ১৪০ বিঘা জমিতে ফলের বাগান রয়েছে। দর্শনার্থীরা এ ধরনের মাল্টা উৎপাদনের বিষয়ে অবাক ও আনন্দিত, এবং তারা জানান মাল্টার স্বাদ দারুণ।
কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ উল্লেখ করেন, একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টার চারা রোপণ করতে পারেন, যেখানে ফল আসতে ১ লাখ টাকার খরচ হয় এবং পূর্ণমাত্রায় ফলন পেতে আড়াই-চার বছর সময় লাগে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, এলাকায় মাল্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে, বর্তমানে ৩৩০ হেক্টর জমিতে মাল্টা ও কমলার চাষ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাড়তে পারে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।
