
রাজশাহী অঞ্চলে মিশ্র ফল চাষ বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি কৃষি পদ্ধতিতে নতুন পরিবর্তন আনছে। আধুনিক পদ্ধতিতে জাতির বিভিন্ন ফল এবং সবজি একসঙ্গে চাষ করা হচ্ছে, যার ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জমির গুণগত মানও উন্নত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির ফল যেমন আম, মাল্টা, লেবু এবং ড্রাগন ফলের চাষ করা হচ্ছে।
চাষিরা একই জমিতে একাধিক গাছের সঙ্গে পেয়ারার মতো সবজি ও অন্যান্য ফসল রোপণ করছেন যাতে এক জায়গা থেকে আয় বাড়ানো যায়। এই পদ্ধতি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির ক্ষেত্রে। কৃষকরা কম সময়ে অতিরিক্ত আয় লাভের জন্য এই আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করছেন, যা কৃষক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের জন্য লাভজনক।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ফল ও সবজি যেমন শসা, বেগুন, পেঁপে, মুলা, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ এবং লাউসহ অন্যান্য চাষ হচ্ছে। চারঘাট উপজেলার জামাল হোসেন জানিয়েছেন, কৃষকরা আমের সঙ্গে ধানসহ বিভিন্ন শস্য চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এটি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং আমের ফলনের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
এটি নিবিড় ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো সক্রিয় করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে কৃষকরা ধান চাষে সমস্যায় পড়ছেন এবং এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে তারা আমের সঙ্গে ধান, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন, সরিষা, হলুদ ও পেঁপে চাষ করছেন। উদাহরণস্বরূপ, জামাল হোসেন আট বিঘার আমবাগানে মৌসুমী ফসলের মিশ্র ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। পবা উপজেলার হুজরিপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা প্রকৌশলী সরওয়ার জাহান ২০২০ সালে মাল্টার বাগান করেছেন এবং একই জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচা মরিচ চাষ করে ভালো লাভ অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে, পান্থপাড়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মোফাক্কার হোসেনও তিন বিঘার ড্রাগন ফলের বাগানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন, যা তার জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে এসেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন যে কৃষকদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে, কারণ তারা কম সময়ে বেশি লাভ পাচ্ছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে, যা বরেন্দ্র অঞ্চলসহ পুরো অঞ্চলে প্রচার লাভ করছে। কৃষকরা নতুন পদ্ধতিতে আমবাগান তৈরি করে তাদের প্রথাগত ধানচাষের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
