
কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ বছরের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য কৃষি খাতের উৎপাদন, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই পরিকল্পনাতে কৃষি খাতের চাহিদা ও সরবরাহের উপর দীর্ঘমেয়াদি নির্দেশনা রয়েছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ কয়েন্ট্রানালের এই সেমিনারে কৃষিসচিব মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অধিকাংশ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথি মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
মহাপরিকল্পনার খসড়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাত উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ১৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। মোটামুটি ২১ লাখ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে আসবে।
উল্লেখযোগ্য ব্যয়গুলি সেচ, বীজ, সার, কীটনাশক এবং স্মার্ট প্রযুক্তি বিস্তারে হবে। ১৩টি থীমেটিক খাতের ৩৫টি উপখাতের মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে, যা পুষ্টিনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষিতে মূল্য সংযোজন, কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষিশিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
সেমিনারে কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উদাহরণস্বরূপ, দেশের কৃষিযন্ত্রের বাজার প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার হয়েছে, যেখানে ৭২ শতাংশ আমদানিনির্ভর। দেশের ভেতরে যন্ত্র উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ২৩৮টি নতুন বীজের জাত এবং ২৪৫টি স্থানীয় কীটনাশকসহ ১২৩টি প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেচ ব্যবস্থায় এখনও ৭২ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হচ্ছে, যা টেকসই নয়।
কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মন্তব্য করেন, কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। কৃষিপণ্যের চাহিদার নিরূপণে দুর্বলতা রয়েছে বলে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিসচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের মতে, এই মহাপরিকল্পনা কৃষি খাতের নীতি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে এবং সর্বসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে। সেমিনারে কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং কৃষি খাতের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
