
“Building Climate Resilient Livelihoods in Vulnerable Landscapes in Bangladesh (BCRL)” প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সম্প্রতি বেড প্লান্টারের বিতরণ, গম বীজ বপনের উদ্বোধন এবং কৃষকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন বলেন, দেশের কৃষি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ফলন বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি জানান, গম উৎপাদনে বেড প্লান্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সাশ্রয়, সার ব্যবহারের দক্ষতা এবং ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা হবে। রাজশাহী অঞ্চলকে শস্য উৎপাদনের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত কৃষক এবং প্রযুক্তির সঠিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষির সম্ভাব্য লাভজনক এবং টেকসই বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে মহাপরিচালক রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শন করেন। তিনি মাঠে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে আধুনিক জাত নির্বাচন, সার ব্যবস্থাপনা, রোগ-পোকা দমন এবং উৎপাদন খরচ কমানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভার শেষে কৃষকদের সমসাময়িক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রদান করা তাদের মূল লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বিভাগজুড়ে প্রকল্পগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপপরিচালক, BCRL প্রকল্পের কম্পোনেন্ট ডিরেক্টর, মসলার উন্নত জাত সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এবং তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসাররা বক্তৃতা দেন। তারা আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত জাত এবং কৃষক প্রশিক্ষণের সমন্বয়কে কৃষির জন্য লাভজনক এবং টেকসই বলে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহীর অতিরিক্ত উপপরিচালক, বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। কৃষকরা জানান, বেড প্লান্টারের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে শ্রম ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তারা সরকারের এ ধরনের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, মাঠপর্যায়ের এই উদ্যোগ এবং কৃষকদের সঙ্গে সংলাপ রাজশাহীর কৃষি উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা স্মার্ট ও যান্ত্রিক কৃষির বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
