
যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্যাম ভ্যান একেনের গবেষণার ফলস্বরূপ, তিনি একটি বিশেষ গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতির মাধ্যমে এমন গাছ তৈরি করেছেন যা ৪০ ধরনের ফল উৎপাদন করতে সক্ষম। এই গাছে বসন্তে ডজনখানেক বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটে উঠে, যা একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দৃশ্য তৈরি করে। কিছু মাস পর, গাছটির বিভিন্ন ডালে দেখা যায় পিচ, পাম, চেরি এবং অ্যাপ্রিকটের মতো বহু বিভিন্ন ধরনের ফল ঝুলছে। এই উদ্ভাবনী পন্থা ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য উভয়ই বৃদ্ধি করে, যা কৃষি গবেষণায় একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
স্যাম ভ্যান একেন একজন ভাস্কর, যিনি জীবন্ত উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন, যেন সেগুলি কেবল প্রকৃতি নয়, বরং সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হওয়া একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। তিনি জটিল পরিবেশগত সমস্যাসমূহকে জনসাধারণের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। তাঁর ৪০ ফলের গাছগুলি একটি সাধারণ গাছের চেয়ে বেশি, যেখানে তিনি খাদ্য, শিল্প ও পরিবেশ সংরক্ষণের একটি অপূর্ব সংমিশ্রণ প্রদর্শন করছেন।
একই গাছে ৪০ ধরনের ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্জিত হয়েছে, যা হাজার হাজার বছর ধরে কৃষি ক্ষেত্রে প্রয়োগ হচ্ছে। ভ্যান একেন চিপ গ্রাফটিং পদ্ধতিতে একটি ফলন্ত গাছের ডাল থেকে কুঁড়ি নিয়ে অন্য গাছের ডালে স্থাপন করা হয়, ফলে দুটি গাছের টিস্যু একত্রিত হয় এবং নতুন ডালটি মূল গাছের অংশ হয়ে বেড়ে ওঠে ও ফল দেয়। তবে, এই পদ্ধতির বৈচিত্র্য সীমিত, কারণ সব ফল প্রুনাস গণের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে, যার মধ্যে পিচ, পাম, চেরি, অ্যাপ্রিকট ও আলমন্ড রয়েছে। এসব প্রজাতির মধ্যে জিনগত সম্পর্ক থাকায় তাদের সংবহনতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, ফলে একই গাছে আপেল ও কমলার মতো ভিন্ন ফলের সংমিশ্রণ সম্ভব নয়।
এই প্রকল্পটি ২০০৮ সালে শুরু হলেও, একটি ৪০ ফলের গাছ তৈরি করতে একদিন সময় লাগে না। প্রতিটি গাছকে পূর্ণাঙ্গ হতে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর সময় প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক ডাল নির্বাচন, গ্রাফটিং ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ২০১৩-১৪ সালের দিকে প্রথম গাছটি পূর্ণতা লাভ করে এবং ৪০ রকমের ফল উৎপাদন শুরু করে।
২০০৮ সালে নিউইয়র্কের একটি কৃষি গবেষণা বাগান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সেটি কিনে নেন ভ্যান একেন। এই বাগানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির ফলের গাছ ছিল, যেগুলি বাণিজ্যিক কৃষিতে গৌণ গুরুত্ব পাওয়ার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছিল। ভ্যান একেন এই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলোকে রক্ষার জন্য সেগুলোকে একটিমাত্র গাছে একত্র করার সিদ্ধান্ত নেন, যা কৃষি বৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
