রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে আলুর চাষ হয়েছে, যেখানে কৃষকরা ৯টি উপজেলায় মোট ৩৪,১০৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন।
বর্তমানে কৃষকেরা আলু খেতের পরিচর্যা, সেচ, আগাছা দমন ও রোগবালাই প্রতিরোধে ব্যস্ত রয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত সেচ সুবিধার কারণে এবার ফলন ভালো হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উফশী আলু ৩১,৪৭৪ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মতিহারে ১০ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ৩৫ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৩,৪১০ হেক্টর, তানোরে ১২,২৫৫ হেক্টর এবং মোহনপুরে ৪,৪৯৫ হেক্টর জমিতে আলু তোলা হচ্ছে।
এবার বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আলু চাষের জন্য মোট ৩৫ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাগমারা উপজেলায় ৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫২০ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৭৭০ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৯২ হেক্টর, চারঘাটে ১৮০ হেক্টর এবং বাঘায় ২২২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়, যেখানে স্থানীয় আলু চাষের জন্য ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমি ব্যবহার করা হয়েছে।
আলুচাষে বিশেষ করে তানোর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়, যা উন্নত জাতের আলু, সঠিক সময় বীজ রোপণ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহারের ফল হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
পবা উপজেলার আলুচাষি সামাউনও জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং নিয়মিত সেচ ও সার দেওয়ার ফলে গাছের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যদি উল্লেখযোগ্য রোগ না হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, তবে লাভ হবে।
অন্যদিকে, বাগমারা উপজেলার কৃষক মতিউর খরচ কিছুটা বেড়েছে বললেও, ভালো ফলন হলে সেই খরচ উঠে আসবে বলেই তিনি মনে করছেন এবং তিনি প্রতিদিন খেতের পরিচর্যা করছেন।
তানোর উপজেলার কৃষক শফিউর রহমান উল্লেখ করেন যে, গত বছরে অনেক কৃষক আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও, এবার ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় চাষ করেছেন এবং বর্তমানে আলুর অবস্থা ভালো। তিনি সরকারের কাছে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়তার দাবি করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক সাব্বিরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শীতের শুরুতে কিছু ঠাণ্ডা থাকলেও পরে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় আলুর বৃদ্ধি সন্তোষজনক হয়েছে এবং কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পেয়ে তিনি সহায়তা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, শরিফ নামের একজন কৃষক আলুর ভালো ফলনের কথা বলেন, কিন্তু বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেলে ক্ষতির শিকার হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি সরকারের কাছে আলু সংরক্ষণ ও হিমাগার ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করার জন্য আবেদন জানান।
রাজশাহী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান যে, চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে এসেছে এবং কৃষকদের উন্নত বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের রোগবালাইয়ের খবর পাওয়া যায়নি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের উৎপাদন ভালো হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আরও কিছু জমিতে আলু চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা প্রকাশ করেন।