নওগাঁ জেলার আম বাগানগুলোতে মওসুমী আমের ফসল প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রচলিত আমের প্রজাতিগুলোর মধ্যে আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, নাকফজলী, বারী-৪, এবং ফজলী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, কিন্তু এসবের মধ্যে বিদশী জাতের বানানা ম্যাংগো ও মিয়াজাকিসের অস্তিত্ব নেই।
তবে সাপাহার উপজেলায় সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রোর বাগানে দৃশ্য ভিন্ন। সেখানে বিলম্বিত গৌরমতি এবং বারোমাসি কাটিমন জাতের আম গাছের সারি দেখা যাচ্ছে। সোহেল রানা, যিনি এই বাগান থেকে এ মৌসুমে কোটি টাকারও বেশি মূল্যে প্রচলিত আম বিক্রি করেছেন, আরও ৬০ লাখ টাকার অপ্রচলিত বিলম্বিত জাতের আম বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং চাকরি খোঁজার পরিবর্তে ৭৫ বিঘা আয়তনের এই বাগান গড়ে তুলেছেন, যা দেশের আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত সাপাহার উপজেলায় অবস্থিত। তার বাগানে বর্তমানে ১৮০০ গাছ গৌরমতি এর পাশাপাশি ১৭০০ গাছ বারোমাসি কাটিমন জাতের আম রয়েছে।
আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে গৌরমতি আম বাজারজাত শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কাটিমন আমের মৌসুম يبدأ হয়। সোহেল রানার প্রত্যাশা, গৌরমতি গাছ থেকে ৪০০ মণ এবং কাটিমন গাছ থেকে ৪৫০ মণ আম পাওয়ার।
সোহেল রানার তার আমবাগানের মাধ্যমে ৬৩ লাখ টাকার অমওসুমী আম বিক্রির প্রত্যাশা করেছেন। কাটিমন আম প্রতি মণ গড়ে ৭০০০ টাকায় এবং গৌরমতি আম কমপক্ষে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হবে, যার ফলে যথাক্রমে ৩১ লাখ ৫০ হাজার এবং ৩২ লাখ টাকার বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বাগানটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই এটির আদলে নিজস্ব বাগান গঠনের আশা করছে।
স্থানীয় ১০ জন যুবক এখানে কর্মসংস্থান পেয়েছে, যাদের প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরি প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করছে। নওগাঁজেলায় বর্তমানে বিলম্বিত জাতের গৌরমতি এবং বারোমাসি কাটিমন আমের চাষের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উচ্চ মূল্য লাভের সুযোগ তৈরি করছে। কৃষি বিভাগ এই চাষিদের দৃঢ় সহায়তা প্রদান করছে।
নওগাঁ জেলা আমের জন্য পরিচিত হওয়ায়, স্থানীয় চাষিরা লাভজনক ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে মনযোগ প্রদান করছে। তবে, তারা আম সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।